1. admin@71bangla24.com : admin :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
সারাদেশে জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নেওয়া হবে।আগ্রহীরা যোগাযোগ করবেন ০১৭৭৮৬২০৬৯০ অথবা ০১৭১২৯৫৪৮৮৩ আপনার প্রতিষ্ঠানকে সারা বিশ্বে পরিচিত করতে বিজ্ঞাপন দিন।বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন-০১৭৭৮৬২০৬৯০
শিরোনামঃ
শেখ হাসিনার জন্মদিনে আব্দুর রহমান এর শুভেচ্ছা। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে আব্দুর রহমান এর শোক। জামালপুরে রাসেল হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যু দন্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন জামালপুর শহরে সম্মিলিত ব্যবসায়ী জনতা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন জামালপুর শহরের চালাপাড়ায় একজনের রহস্যজনক মৃত্যু, লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জামালপুর জেলা শাখার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত সালথায় আলেমদের সাথে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের মত বিনিময়। ফরিদপুরে লাইসেন্স বিহীন কোন ক্লিনিক থাকবে না- যুগ্ন সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া। বোয়ালমারীতে কবি নাজমুল হক নজীরের ৬৬ তম জন্মবার্ষিকী পালিত শ্লোগানের কবি নাজমুল হক নজীর এর ৬৬ তম জন্মদিন
add

জয় বাংলা স্লোগানের সাথে প্রথম প্রেম।

  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০
  • ২০৪ বার পড়া হয়েছে

ওবায়দুর রহমানঃ
সময়কাল ১৯৮১ সালের দিকে বয়স কত আর ৬-৭ বছর। যেমনটি আমার ছেলের বয়স। প্রেসিডেন্ট ইলেকশন,১৫ই নভেম্বর ১৯৮১ সাল। প্রার্থী আওয়ামী লীগের ডঃ কামাল হোসেন, বিএনপির প্রার্থী বিচারপতি আব্দুর সাত্তার। আমাদের বাড়ির পাশের একটি পরিবার শুনেছি তারা মুসলিমলীগ করতো বা যখন যে দল ক্ষমতায় সে দল করতো। সেই বাড়ির কিছু ছেলে ধানের শীষ , ধানের শীষ বলে মিছিল করছে। এমন সময়ে আমাদের বাড়ির আমার এক চাচাতো ভাই বলছে তার সম সাময়িকদের চল আমরা নৌকার মিছিল করবো। আমিতো খুবই ছোট, আমার সমবয়সী কয়েকজনকে আমার সেই চাচাতো ভাই বললো ওরা যখন আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল করবে তখন তোরা মিছিল করবি। আমরা পিচ্চিরা বললাম কি বলতি হবে। আমাদের শেখানো হলো আমরা বড় যখন বলবো জয় বাংলা তখন তোরাও বলবি জয় বাংলা, আর আমরা যখন বলবো নৌকা, তখন তোরাও বলবি নৌকা। চাচাতো ভাই আমাদের বললো তোদের চকলেট ও বিস্কুট দিব তোরা মিছিল করবি। আমাদের আর ঠেকায় কে…? যখন ঐ পাশের বাড়ির ছেলেরা-বাচ্চারা মিছিল নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনে এলো তখন আমরাও মিছিল শুরু করলাম জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, নৌকা, নৌকা, বিএনপির দালালরা হুশিয়ার, হুশিয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই প্রেমে পড়ে গেলাম জয় বাংলার এবং জয় বঙ্গবন্ধুর ও নৌকা নৌকা শ্লোগানে।

নির্বাচন হয়েছে আমাদের বাড়ির বড়রা সন্ধ্যায় রেডিওতে খবর শুনছে। নির্বাচনে জয়লাভ করেছে সাত্তার। আমাদের পাশের বাড়ির লোকেরা পরের দিনও মিছিল করলো। আমরা ছোটরা ওতটা বুঝিনা কিন্তু আমরাও মিছিল শুরু করলাম নৌকা নৌকা করে, বিএনপির দালালরা হুশিয়ার বলে। তারপরে শুনেছিলাম ওরা নাকি আমাদের মুরব্বিদের নিকট বিচার দিয়েছিল। সেই শুরু জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু প্রেম। তা যতই বুঝতে শিখেছি ততই বৃদ্ধি পেয়েছে।

এরপর এরশাদ ক্ষমতায় এলো। তখন এসব বুঝতে পারিনাই। ক্ষমতা কি? শুধু রেডিওতে শুনতাম প্রেসিডেন্ট এরশাদ। এরপর শুরু হলো এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, আমাদের বাড়িতে রেডিওতে খবর শোনার জন্য প্রতিদিন অনেক লোক ভীড় করতো। একদিন দেখি গ্রামেও মিছিল হলো এরশাদ বিরোধী।
এর কিছুদিন পরে আব্বা বললো আজ আলফাডাঙ্গা মন্ত্রী আসবে। আমি আব্বাকে প্রশ্ন করলাম মন্ত্রী কি আমি মন্ত্রী দেখতে যাবো। আব্বা প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক। তখন সকল শিক্ষককে যেতে বলেছে মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে। আমি জামা প্যান্ট পরে আব্বার সাইকেলের পিছনে বসে পড়লাম। আলফাডাঙ্গায় গেলাম মন্ত্রী আসলো, অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে এসময় পাশে শুরু হয়েছে হইচই। পুলিশ বাঁশি বাজাচ্ছে। আমি ভয় পেয়েছি। আব্বার কোলের উপরে বসে পড়েছি। আমি আব্বাকে বললাম বাইরে চলো আমরা বাড়ি চলে যাবো। আব্বা বললো বাইরে যারা হইচই করছে তারা জয় বাংলার লোক। মন্ত্রীর আসাতে এরা ক্ষেপে গেছে। আমি ছোট মানুষ ওতো কিছু বুঝিনা, আমি আব্বাকে বললাম আমিও জয় বাংলার লোক। আমিতো বাড়িতে মিছিল করি জয় বাংলার। যদিও এখন টেলিভিশনের যুগ। টেলিভিশনে দেখে আমার ছেলে অর্কও ঘরের মধ্যে জয় বাংলা শ্লোগান দেয়া শিখে গেছে। এবং একা একা আয়নায় সামনে দাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রাকটিস করে। ওর শ্লোগান আর ভাষণ প্রাকটিস দেখে আমার সেই ছোট বেলার জয় বাংলা শ্লোগান দেয়ার কথা মনে পড়ে যায়।

১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে নৌকা আর লাঙ্গল প্রতিযোগিতা করে। শিশু বয়সে শেখা সেই নৌকা শ্লোগান আমরা দিয়েছি ৮৬ নির্বাচনে। তখন হয়তো ক্লাস সিক্সে পড়ি পানাইল স্কুলে। গ্রামের বড় মানুষরা যখন নৌকার মিছিল করতো তখন রাস্তার পাশে বাড়ি হওয়ায় আমরা দৌড়ে রাস্তায় চলে গিয়েছি মিছিল দেখতে। কখন যে মিশে গিয়েছি ঐ নৌকার মিছিলে বুঝতে পারি নাই। মিছিল শেষে আমরা ছোটরা আবার মিছিল করতে করতে চলে এসেছি বাড়িতে।

এরপর ১৯৮৭ সালের দিকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন হলো, ১৯৮৮ সালের নির্বাচন হলো, ১৯৯০ দিকে যখন এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে আমি তখন কামারগ্রাম স্কুলে নবম শ্রেণির ছাত্র। প্রায়ই স্কুল থেকে পালিয়ে সাইকেল চালিয়ে চলে গিয়েছি আলফাডাঙ্গা। জয় বাংলা শ্লোগান শুনলেই কেন যেন আমার গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যেত। মিছিলে যাওয়ার জন্য সুড়সুড়ি অনুভব হতো। এরকম একদিন আলফাডাঙ্গায় ছাত্রলীগের মিছিলে গিয়ে জয় বাংলা শ্লোগান এবং ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হয়ে গেলাম। এরপর শুরু হলো প্রচন্ড রকমের এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। আমারও নেশায় পরিনত হয়ে গেলো জয়বাংলার মিছিলে যাওয়ার। প্রায়দিন আমি স্কুল ফাঁকি দিয়ে চলে যেতাম আলফাডাঙ্গায় জয় বাংলার মিছিলে। মিছিলে যাওয়ার সুবাদে একেক একেক করে পরিচয় হলো, সাইক্লোন ভাই, মিজান ভাই, মরহুম মাসুদ মামা, তারিকুল ইসলাম ইকু মামা, আমার খালাতো দুই ভাই স্বাধীন ভাই, আশরাফ ভাইতো ছিলোই। আরোও পরিচয় হয়েছে লাভলু ভাই, তপন ভাই, আব্দুল্লাহ ভাই, মরহুম ফিরোজ ভাই, পানাইলের মরহুম খান সাইদ ভাই, মালার আসলাম ভাই, আলফাডাঙ্গার কচি ভাই, সায়ফার ভাই, আনিস ভাই, প্রকাশদা সহ আরোও অনেকের সাথে।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট এরশাদ পদত্যাগ করলেন। আলফাডাঙ্গা সে কি বড় আনন্দ মিছিল। সেই মিছিলে আমিও ছিলাম একজন ক্ষুদ্র অংশগ্রহণকারী।

১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের জন্য জন্য সারা আলফাডাঙ্গা সহ বড়দের সাথে ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে আমিও গেলাম পাশের উপজেলা, বোয়ালমারী, মধুখালীতে। আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে ছিলেন আব্দুর রউফ স্যার। নির্বাচন হলো আমাদের আসনের এমপি হলেন রউফ স্যার কিন্তু সারাদেশে আওয়ামীলীগ হেরে গিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলোনা।

এরপর ১৯৯১ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হল। উক্ত সম্মেলনে ছোট মানুষ হিসাবে এবং রাজনীতিতে আমার অতি উতসাহের কারণে মরহুম জননেতা আব্দুর রউফ স্যারের অনুপ্রেরণায় আমাকে উতসাহ দিতে ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সদস্য পদে মনোনীত করলেন। আমি হয়ে গেলাম গৌরবের ছাত্রলীগের একজন গর্বিত ক্ষুদ্র কর্মী।

১৯৯১ সালের জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হলো। আমরা আলফাডাঙ্গা হতে ফরিদপুর আসলাম। জসীমউদ্দিন হলে সম্মেলন হলো। সম্মেলনে হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জিয়াউল হাসান মিঠু ভাই সভাপতি -সাধারণ সম্পাদক হলেন। আমরা কয়েকজন পাশেই রাজেন্দ্র কলেজের ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়ে রাজেন্দ্র কলেজের প্রেমে পড়ে গেলাম স্বপ্ন বুনলাম এই কলেজে পড়তে হবে। যাহোক সে বিষয়ে আরেকদিন লিখবো।

এরপর একদিন আমরা আলফাডাঙ্গা থেকে আসলাম রাজেন্দ্র কলেজের ইলেকশন দেখতে। ইলেকশন দেখেতো পুরোই মগ্নতায় ঘিরে ধরলো যে এই কলেজে ভর্তি হবো এবং ভোট দিব।

১৯৯২ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়ে আবার ক্রিকেট প্রেম ও রাজনীতির প্রেম দুটি মিলিয়ে প্রত্যাশিত ফলাফল হলোনা। ঐ বছরে আর ভর্তি হতে পারলাম না। পরের বছর ১৯৯৩ এ রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম। মাথায় শুধুই জয় বাংলা শ্লোগান। আর ছাত্রলীগ। রুকসুর নির্বাচনে অনিমেষ -জাহিদ-শওকত পরিষদের পক্ষে রাতদিন নিজেকে নিয়োজিত করলাম ভোট চাইতে। তখন চরকমলাপুরে থাকি একটি মেস বাড়িতে। জীবনদা ও আমি। সাথে মাঝে মধ্যে অজয়দাও এসে থাকতেন। অজয়দা ছাত্র রাজনীতি করতেন এবং ছাত্রদল করতেন। কিন্তু কখনো আমাকে বলেনি ছোট ভাই তুমি আমাদের পক্ষে কাজ করো। ভোট চাইতে গিয়ে একটি মেসে ঝামেলা হলো প্রতিদন্দী একটি দলের কয়েকজনের সাথে। পরের দিন ক্যাম্পাসে কলেজ ম্যাগাজিন নিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদেও ম্যাগাজিনের জন্য মিছিল করি। মিছিলে খুব উত্তেজনা হয়েছিল। কিছু প্রতিপক্ষের কিছু ছেলে আমাকে মার্ক করে রেখেছিল। ইলেকশন হলো ছাত্রলীগ হতে পূর্ণ প্যানেল জয়লাভ করেছে। অনিমেষদা রুকসুর ইতিহাসে সর্বচ্চো ব্যবধানে ভিপি পদে জয়লাভ করলেন। আমরাতো খুবই খুশি। খুশিতে পরের দিন চর কমলাপুর হতে সাইকেল নিয়ে আমি ও আমার বন্ধু বিটু (ভাংগা) পূর্ব খাবাশপুর হয়ে নিউমার্কেটে যাবার পথে নির্বাচনে পরাজিত গ্রুপের কিছু ছেলে যারা আমাকে মার্ক করে রেখেছিল তারা আমার উপরে হামলা করে। তখন ক্ষমতায় বিএনপি। হামলায় আমি আহত হয়ে দাড়িয়ে আছি তখন কোথা হতে জীবনদা খবর পেয়ে আমাকে নিতে ছুটে আসে। উনি আমাকে নিয়ে থানার ভিতর নিয়ে যান। থানার ওসির সাথে তখন দাদার ভালোই সম্পর্ক। তখন জীবনদা ওসি সাহেবকে বললে ওসি সাহেব হামলাকারীদের ভয় ভিতি দিয়ে আমাদের সাথে মিমাংসার ব্যবস্হা করেন। দুপুরে ফিরে যাই চরকমলাপুর। চরকমলাপুরে ফিরলে রাতে হামলাকারীরা আসে আমাদের সাথে কথা বলতেও মিমাংসা করতে। আমাকে ও জীবনদাকে নিয়ে ওরা চরকমলাপুরের মরহুম সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে বিলের ধারে নিয়ে যায় আমাকে ও জীবনদাকে। এদিকে খবর রটে গেছে যে ওবায়দুর ও জীবনকে কারা যেন তুলে বিলের মধ্যে নিয়ে গেছে। সেদিন লেভী ভাইয়ের নেতৃত্বে চরকমলাপুরের অনেক মানুষ আমাদের উদ্ধার করার জন্য বিলের দিকে লাঠিসোটা নিয়ে গিয়ে আমাদের উদ্ধার করেছিলেন। যদিও হামলাকারীরা এবং লেভি ভাই সহ সকলে সেদিন আমাদের আপস করে দিয়েছিল।

এভাবে চলতে থাকলো থাকলো জয় বাংলার প্রেমের রাজনীতি। শুরু হলো খালেদা সরকার বিরোধী আন্দোলন। প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে সহ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে হাজির হয়ে যাই। মিছিল অংশ নেই।

এরপর প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন, রুকসুর নির্বাচন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের পক্ষে কাজ করেছি।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ২১ বছর পরে ক্ষমতায় আসলো। আমিও আস্তে আস্তে রাজনীতির সাথে সংযোগ কমিয়ে দিয়ে। শিক্ষা ও রাজনৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হলাম। আমি রাজনীতি শেখার প্রয়োজন এবং ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতি করবোনা মর্মে আমার বন্ধু গনেন কর্মকারের মাধ্যমে ছাত্র ইউনিয়নের পাঠ চক্রে যেতে শুরু করলাম। কিছুদিনের মধ্যেই পাঠচক্রে একজন মনোযোগী ছাত্র হয়ে গিয়ে রাজনীতির পাঠ নিতে শুরু করলাম। যদিও আমার প্রিয় একজন মানুষ কমরেড লায়েকুজ্জামান চাচা আমাকে ঠাট্রা করে বলতেন এই যে আমার জয় বাংলার লোক চলে এসেছে। আমি পাঠ নিতে থাকি। আমাকে ঢাকায় কয়েকটি সেমিনারেও পাঠিয়েছে ছাত্রইউনিয়ন ফরিদপুরের প্রতিনিধি হিসাবে। ছাত্র ইউনিয়ন করে শিখেছিলাম কিভাবে ছাত্র রাজনীতিকে জ্ঞান ভিত্তিক চর্চার জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ভাই এর একটি নিবন্ধে পড়েছিলাম ছাত্রইউনিয়ন করেও তুমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জীবন দর্শন নিয়ে পড়তে পারবে। আমি উতসাহী হয়েছিলাম। পরবর্তীতে ছাত্রইউনিয়ন আমাকে ফরিদপুর জেলা কমিটির সহ সভাপতি পদ দিয়েছিল।

সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি বহু আগেই কিন্তু বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক
বাংলাদেশ বিনির্মানে ছোট বেলায় যে জয় বাংলা শ্লোগান মননে ঢুকে গিয়েছিল এবং কিশোর বয়সে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে শুরু করে ছাত্র ইউনিয়নের পাঠ চক্রের মাধ্যমে শেখা রাজনীতির পাঠ ও অভিজ্ঞতা আজও আমাকে মোহাবিষ্ট করে রাখে।

রাজনীতির পথ পরিক্রমায় আদর্শিক রাজনীতি আজ যেখানে গিয়ে ঠেকছে তাতে মনে হয় না আর কখনো রাজনীতির অঙ্গনে ফিরে যাওয়া হবে। আর ফিরে যেতে চাইওনা। কারণ ছোট সময় হতে যাদের দেখে এসেছি এন্ট্রি আওয়ামীলীগ পরিবার তারা আজ জয় বাংলা শ্লোগানের হয়েছে উত্তরাধিকার। তাদের কাছ থেকে আমাদের নিতে হয় রাজনীতির মঞ্চের পাশ। রাজনীতির ছবক।

মুরব্বীদের মুখে শুনেছি ১৯৫৪,৭০, ৭৩, ৭৯ সাল পর্যন্ত আর ৮৬, ৯১, ৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আমি নিজ চোখেই দেখেছি যে সকল পরিবারের মানুষ নৌকায় ভোট দেয়নি কোনদিন এবং আওয়ামীলীগের নাম মুখে আনতেননা তারা ২০০৮ পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকের মুখেই জয় বাংলা শ্লোগান শুনছি। কিন্তু সেই শ্লোগানে কোন শ্রদ্ধা নেই, নেই কোন আবেগ, নেই কোন নিবেদন। তাদের উদ্দেশ্য একটাই আওয়ামীলীগের পদ পদবী ব্যবহার করে নিজেদের পিঠ বাচাঁনো ও আখের গোছানো ও ধান্দাবাজি। যার পরিনতি এখন মানুষ দেখতেই পাচ্ছে।

ওবায়দুর রহমান
২৯/০৬/২০২০
রোজ সোমাবার
গাজিপুর।

add

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

One response to “জয় বাংলা স্লোগানের সাথে প্রথম প্রেম।”

  1. Rezaul Karim says:

    খুব সুন্দরভাবে প্রেক্ষাপটগুলো ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে। সাবলীল ও সুন্দর ভাষা ব্যবহার করেছেন। অনেক ধন্যবাদ। শুধু আপনার বক্তব্যে সাথে আমারও দুঃখবোধ হয় এ বাক্যটায়

    এন্ট্রি আওয়ামীলীগ পরিবার তারা আজ জয় বাংলা শ্লোগানের হয়েছে উত্তরাধিকার।”
    সাংবাদিক রেজাউল করিম
    ফরিদপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
add
© 71bangla24 2020 All rights reserved. কারিগরি সহায়তা: WhatHppen
Theme Customized By BreakingNews